আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেনে হামলার গত এক মাসে ৭ থেকে ১৫ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে বুধবার (২৩ মার্চ) ন্যাটোর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে এ তথ্য জানান।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুদ্ধে ৩০ থেকে ৪০ হাজার রাশিয়ার সৈন্য হতাহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২ মার্চের পর থেকে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা দেয়নি। ওই দিন তারা জানিয়েছিল, তাদের ৫০০ সেনা মারা গেছে।
প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানে ১০ বছরের দখলদারিত্বে রাশিয়া প্রায় ১৫ হাজার সৈন্য হারিয়েছে। ইউক্রেনও নিজদের সেনা নিহতের সংখ্যার বিষয়টি অস্পষ্ট রেখেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বলেছিলেন ১৩০০ ইউক্রেনীয় সেনা মারা গেছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কয়েক বছর আগে আবেদন করে ইউক্রেন। মূলত, এ নিয়েই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন প্রত্যাহারে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো। কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। ঠিক তার দুদিন পর ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।
এ দিকে চলমান এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়েছেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ। যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩শ’ সেনা নিহত এবং রাশিয়ার ১৫ হাজার ৬০০ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের প্রায় ৫০০ সৈন্য নিহত এবং ইউক্রেনের আড়াই হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ অভিযানে ইউক্রেনে ৯২৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সূত্র : বিবিসি।